চট্টগ্রামের বাটালী হিল

চট্টগ্রামের মূল কেন্দ্রে অবস্থিত বাটালী হিল। এটি চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে উচু পাহাড়। উচ্চতা প্রায় ২৮০ ফুট। মনে মনে ভাবছেন এতে উঠতে চরম কষ্ট করতে হবে। চিন্তার কোনো কারণ নেই, পাহাড়ে উঠার যাদের নূন্যতম অভিজ্ঞতা নেই তারা অনায়াসে বাটালী হিলে উঠতে পারবেন। চট্টগ্রাম শহরের প্রাণ কেন্দ্রের লালখান বাজার এলাকার ইস্পাহানী মোড়ের উত্তরে ফাহিম মিউজিকের পাশ ঘেষে এবং ম্যাজিস্ট্রেট কলোনীর পিছন দিয়ে পিচ ঢালা পথ বেয়ে উপরে দিকে উঠে গেছে বাটালী হিলের রাস্তা। এই বাটালী হিল আবার ‘জিলাপি পাহাড়’ নামেও পরিচিত। এর কারণ হচ্ছে- পাহাড়ে উঠার রাস্তাটি জিলাপির প্যাঁচের মত আঁকা-বাঁকা পথ বেয়ে উপরের দিকে উঠে গেছে, এর ফলে পাহাড়ের চূড়ায় উঠার সময় অন্যরকম একটা চমৎকার অনুভূতি হয়।

কিন্তু লক্ষ্য করার মত একটা ব্যাপার হচ্ছে- প্রাকৃতিক নৈসর্গে ভরা এই চমৎকার পাহাড়টি চট্টগ্রামের মূল কেন্দ্রে অবস্থিত হলেও খোদ চট্টগ্রামের স্থানীয় অনেকেই এর অবস্থান সম্পর্কে জানেননা। এমনকি আমি নিজেও জানতাম না! যদিও আমি ছোট বেলা থেকে এই পাহাড়ের নাম শুনে এসেছি।

সর্বোচ্চ চূড়াটিকে বলা হয়- শতায়ু অঙ্গন। বাটালী হিলের সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠলে পুরো চট্টগ্রাম শহর দেখা যায়। সেখানে গিয়ে অনুভব করা যাবে জঙ্গলের মুগ্ধতা। বিগত ২০০৩ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাটালী হিলে বাংলাদেশ পুলিশের সৌজন্যে জলপাই, কাঠাল, কালজাম, লিচু, কমলা, আম, জাফরান, চন্দন, কফি, অর্জুন গাছ সহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় সাড়ে ১২ হাজার গাছ রোপন করা হয়। উল্লেখ্য, বাটালী হিল বাংলাদেশ সরকারের গণপূর্ত বিভাগের নিজস্ব সম্পত্তি। উক্ত পাহাড়ের বিভিন্ন চূড়ায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অফিস ও বেশ কয়েকটি বাংলো রয়েছে।

এবার চলুন বাটালী হিলের কয়েকটি ছবি দেখে নেয়া যাক-

এই ধরণের সিড়ি দিয়ে খুব সহজে উঠতে পারবেন বাটালী হিলে তবে প্রাকৃতিক নৈসর্গিক দৃশ্য অবলোকন করা মিস করবেন নিশ্চিত!

আশপাশের সুন্দর দৃশ্য দেখতে দেখতে সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন পর্যটকরা

আঁকা-বাঁকা পথ বেয়ে মূল চূড়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ি পথ

পাহাড়ে সহজে উঠা-নামার সিড়ি

ঐ দূর পাহাড় হাতছানি দিয়ে ডেকে নিয়ে যায় প্রকৃতি প্রেমীদের

এই ধরনের আঁকা-বাঁকা পথের জন্য একে জিলাপি পাহাড়ও বলা হয়

বাটালী হিলের সর্বোচ্চ চূড়ার নাম ‘শতায়ু অঙ্গন’

পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়া থেকে চট্টগ্রাম শহরের দৃশ্য

প্রকৃতি প্রেমীরা জঙ্গলের স্বাদ পেতে পারেন বাটালী হিলে

বাটালী হিলের সর্বোচ্চ চূড়া- শতায়ু অঙ্গন

পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়া থেকে চট্টগ্রাম শহরের দৃশ্য

প্রাইভেট গাড়ি নিয়েও উঠতে পারেন বাটালী হিলে, তবে হেঁটে উঠাই সবচেয়ে ভালো

জিলাপির প্যাঁচের মত আঁকা-বাঁকা পথ এই বাটালী হিলের রাস্তা

[ছবিগুলো প্রায় ১ বছর আগে Nokia 6500 S1 মডেলের মুঠোফোন দিয়ে তোলা]

Advertisements

About চাটিকিয়াং রুমান

সবসময় সাধারণ থাকতে ভালোবাসি। পছন্দ করি লেখালেখি করতে, আনন্দ পাই ডাক টিকেট সংগ্রহ করতে আর ফটোগ্রাফিতে, গান গাইতেও ভালবাসি। স্বপ্ন আছে বিশ্ব ভ্রমণ করার...।।

Posted on মে 14, 2012, in ফটোগ্রাফি, ভ্রমণ and tagged , . Bookmark the permalink. 26 টি মন্তব্য.

  1. অনেক চমৎকার একটি জায়গা চট্টগ্রামের বাটালী হিল।
    ছোট থাকতে কত যে যেতাম! চট্টগ্রাম গেলেই এখানে না যেয়ে আসতাম না। এখন তবুও কত পরিবর্তন।

    চমৎকার লাগলো পোস্টটি আর ছবিগুলো। নস্টালজিক হয়ে গেলাম।

    • বাটালী হিল আসলেই চমৎকার জায়গা। আমার এক বন্ধু আমাকে জায়গাটা চেনাতে সাহায্য করেছিল গতবছর। অথচ এর আগে এই বাটালী হিলের নাম শুনলেও এর অবস্থান চিনতাম না।

      আর আপনি চট্টগ্রামে কয় বছর ছিলেন? চট্টগ্রামে আবার আসুন। :)

  2. চট্রগ্রামের বাটালী হিল আমার প্রিয় জায়গার একটা। আমি অনেকবার উঠেছি… ১৯৯০-৯১ সালে…।। আপনার পোষ্ট পড়ে মনে পড়ল।

    আগামী কয়েক সাপ্তাহের মধ্যে একবার চট্রগ্রাম যাব বলে ভাবছি, আবার বাটালী হিলে উঠব…।

  3. আমি ঢাকার মানুষ।
    চট্টগ্রামে যাওয়া হতো আগে ভ্রমণের জন্য। এছাড়া সেখানে আমাদের ব্যবসাও আছে। আর বন্ধু বান্ধব তো আছেই।

  4. রুমান জন্ম তোমার স্বার্থক তুমি অমন অঞ্চলে জন্ম নিয়েছ । প্রকৃতির নৈসর্গিক রূপে বিলীন হতে পার ।ছবিগুলি না দেখলে এতটা গাঢ় অনুভূতি হত না ।

  5. ১৯৭৯ থেকে ৮৬ বহুবার গিয়েছি..চমৎকার… :)

  6. ছবি দেখে আরত বর্ণনা পড়ে যাবার খুবই ইচ্ছে হচ্ছে, যদি কোনদিন বাংলাদেশে যেতে পারি তো নিশই যাব। :-)

  7. ছবিগুলোতেই এত সুন্দর !!! আসলে যশোরের ছেলে আমি, তাই পাহাড়ি-প্রকৃতির সাথে যথেষ্ট মিশতে পারিনি। ধন্যবাদ রুমান ভাই। সুযোগপেলে বেড়িয়ে আসব, আর চট্টগ্রামে কাকু চাকুরী করেন, সুতরাং চান্স একটা নিব ইনশ-আল্লাহ। ভাল থাকবেন।

  8. ছোট্টবেলা। তখন আমি সিলেটে। টাকার খেলা নামে একটা খেলা ছিল। প্রায়…ই এই খেলাটা খেলতাম। বাটালী হিল জায়গাটা একডিন আমি কিনেছিলাম!
    চট্টগ্রামে প্রায় সাড়ে চার বছরে একবারও মনে পড়েনি কাগুজে টাকায় ক্রয়কৃত আমার বাটালী হিলের কথা। আজ তোমার লেখা আমাকে সেই ছোট্ট বেলায় ফিরিয়ে নিয়ে গেল।
    বিনে পয়সায় আতীত ভ্রমন বলা যায়।
    চট্টগ্রাম থাকতে থাকতেই যাব একদিন। দেখি দখলটা নিতে পারি কিনা।

    • এমন অনেক কিছুই আছে যা আমাদের হঠাৎ করে মনে পড়ে যায়। নিয়ে যায় অনেক আগের কোন ঘটনা কিংবা স্মৃতির বারান্দায়। খুব সুন্দর জায়গা এই বাটালী হিল। একদিন সময় করে ঘুরে আসো এই বাটালী হিল থেকে।

      আর হ্যাঁ, তোমার ঐ “টাকার খেলা”টা বোধহয় খুব মজার। ভালো থেকো।

  9. ওহ মনে পড়েছে, ধনী হবার মজার খেলা নাম ছিল । হুঁম দারুণ মজার খেলা। তুমিও ভাল থাকবে হাসান ।

  10. বাটালী হিলে আমিও গিয়েছিলাম…… ভালো লাগলো পোষ্ট।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: