এসিডদগ্ধের জন্য আইনি সুরক্ষা

শারমিন আখতার আঁখি, ঢাকার ইডেন কলেজের বাংলা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী। গত ১৫ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে কলেজের উদ্দেশ্যে সকাল ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হন তিনি। তার সাথে ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করা মনির উদ্দিন নামের এক যুবকের সাথে পূর্ব পরিচয় ছিল। ঘটনার দিন আগে থেকে উঁৎ পেতে থাকা মনির ও তার সহযোগী মাসুম তাকে ধারালো অস্ত্র ও এসিডের ভয় দেখিয়ে জোর করে রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকার একটি কাজী অফিসে নিয়ে যায়। কাজী অফিসে নিয়ে গিয়ে আঁখিকে জোর করে বিয়ে করতে চেয়েছিল মনির। কিন্তু আঁখি কোনক্রমে রাজী না হওয়াতে মনির ও তার সহযোগী মাসুম মিলে প্রথমে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায় এবং পরক্ষণে এসিড মেরে ঝলসে দেয়। ঘটনার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে জানা যায় যে তার শরীরের প্রায় ১৫ শতাংশ এসিডদগ্ধ হয়েছে যেটাকে ‘ডীপ বার্ন’ বলা হয় এবং চিকিৎসকরা সেটাকে আশঙ্কাজনক পর্যায়ের বলে থাকেন। তাছাড়া তার ডান চোখের কর্নিয়াও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

আর একটি মুখও যেন এসিডে ঝলসে না যায়

আর একটি মুখও যেন এসিডে ঝলসে না যায়

এমন ঘটনার শিকার শুধু আঁখিই নন, তার মতো আরো অনেক মেয়েই এই ধরনের ঘটনার শিকার হচ্ছেন। কিন্তু তাই বলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে? এদের জন্য কি কোন শাস্তির বিধান নেই? এসিড অপরাধসমূহ কঠোরভাবে দমনের উদ্দেশ্যে ২০০২ সালে সরকার ‘এসিড অপরাধ দমন আইন’ নামে একটি আইন প্রণয়ন করে। এই আইনে এসিড সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত বিধান বর্ণিত হয়েছে।

উক্ত আইনের ৪নং ধারায় বলা হয়েছে- যদি কোন ব্যক্তি এসিডের মাধ্যমে অন্য কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটান তাহলে ঐ ব্যক্তি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন এবং এরই সাথে অতিরিক্ত হিসেবে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা অর্থদন্ডেও দন্ডিত হবেন।

তাছাড়া কোন ব্যক্তি যদি এসিড দ্বারা অন্য কোন ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি নষ্ট করে দেয় অথবা মুখমন্ডল, স্তন বা যৌনাংগ বিকৃত করে দেয় তাহলে উক্ত ব্যক্তি আইনটির ৫নং ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদন্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন এবং অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকার অর্থদন্ডেও দন্ডিত হবেন।

এছাড়া শরীরের এ সকল অংশ ছাড়া অন্য কোন অংশ বিকৃত হলে ঐ ব্যক্তি ৭ বছর থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হবেন এবং অতিরিক্ত হিসেবে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ডেও দন্ডিত হবেন।

এসিড অপরাধ দমন আইন, ২০০২ এর ৬নং ধারায় উল্লেখ আছে যে- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির উপর এসিড নিক্ষেপ করেন বা করার চেষ্টা করেন এবং এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক ক্ষতি না হলেও উক্ত ব্যক্তি ৩ বছর থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন এবং অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকার অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন।

আঁখির ঘটনায় মনির উদ্দিনের সহযোগী মাসুমের মতো যদি কোন ব্যক্তি ধারা ৪, ৫ ও ৬ এ বর্ণিত কোন অপরাধ সংঘটনে কাউকে সহায়তা করেন তাহলে ঐ ব্যক্তিও একই দন্ডে দন্ডিত হবেন। যা আইনটির ৭নং ধারায় বলা হয়েছে। আরো একটি শাস্তির বিধান রয়েছে এই আইনে। সেটা হচ্ছে- যদি কেউ কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন তাহলে তিনি সর্বোচ্চ ৭ বছর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন (ধারা ৮)।

দৈনিক যায়যায়দিন’এ প্রকাশিত

Advertisements

About চাটিকিয়াং রুমান

সবসময় সাধারণ থাকতে ভালোবাসি। পছন্দ করি লেখালেখি করতে, আনন্দ পাই ডাক টিকেট সংগ্রহ করতে আর ফটোগ্রাফিতে, গান গাইতেও ভালবাসি। স্বপ্ন আছে বিশ্ব ভ্রমণ করার...।।

Posted on নভেম্বর 24, 2013, in আইন and tagged , , . Bookmark the permalink. 4 টি মন্তব্য.

  1. আইন বিষয়ক লেখা ব্লগে খুবই কম আসে। আপনার এই লেখাটি পড়ে অনেক কিছু জানবার রয়েছে। ধন্যবাদ রুমান ভাই এমন সচেতনমূলক আইনী বিষয়ক পোষ্টের জন্য। শুভকামনা জানবেন।

  2. অপরাধীর শাস্তি শেষ পর্যন্ত হচ্ছে – এটাই দরকার।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: